সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্রিকস সম্মেলনে মুখ খুললেন, নরেন্দ্র মোদি
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্রিকস সম্মেলনে মুখ খুললেন, নরেন্দ্র মোদি

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্রিকস সম্মেলনে মুখ খুললেন, নরেন্দ্র মোদি

দেশবন্ধু নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্পষ্ট জানালেন, সন্ত্রাসবাদের জন্যই বিশ্ব অর্থনীতির এক লক্ষ কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি অপূরণীয়। সন্ত্রাসবাদ যে ক্ষতি করছে তা আন্তর্জাতিক ব‌াণিজ‌্য ও পরিবেশের উপর স্থায়ী ক্ষত তৈরি করছে। এখনই যদি তা না রোখা যায় তাহলে অদূর ভবিষ‌্যতে সব দেশকেই এর বড়সড় মূল‌্য চোকাতে হবে।

ব্রাজিলে একাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে সন্ত্রাসবাদ দমন করার জন‌্য কঠোর আন্তর্জাতিক নীতি ও আইন প্রণয়ন করার আরজি জানান প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব‌্য মনযোগ দিয়ে শোনেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরো, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মতো রাষ্ট্রপ্রধানরা। মোদি বলেন, গত দশ বছরে সন্ত্রাসবাদের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার মানুষ। মাদক সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মানব পাচার, নারী ও সিশু পাচারের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। মোদি বলেন, “ভারতে জল সম্পদ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক বর্জন, কার্বন দূষণ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ‌্য সচেতনতামূলক ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্ট বিরাট সাড়া ফেলেছে। সরকারের উদ্যোগে ব‌্যাপক প্রচার চলছে। আমি চাই, ব্রিকসের দেশগুলিও এই কর্মসূচি রুপায়ণ করতে নিজেদের মধ্যে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করুক। একটা বৈঠক ডেকে যৌথ রূপরেখা তৈরি হোক।”

এদিকে, প্রথা মেনে ব্রাজিলে ব্রিকসের মঞ্চে মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যদিও জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মোদি জানান, ‘দু’দেশের সম্পর্ক এখন নতুন উৎসাহে, নতুন অভিমুখে বইছে।’ মোদি জিনপিং-কে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে ফের দেখা হওয়ায় আমি খুশি।’ এরপরই তাঁর চিন সফরের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, ‘আমাদের যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে। দুই অচেনা ব্যক্তি এখন ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। অনেক বার বিভিন্ন মঞ্চে এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। আপনি আমার দেশ ঘুরে গিয়েছেন। আপনার গ্রামেও আমাকে নিয়ে গিয়েছেন। আপনি আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে উহান গিয়েছিলেন। এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে গত ৫ বছরে আমাদের সম্পর্কে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের গভীরতা অনেকটা বেড়েছে।’

গত অক্টোবরেই ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তার পর ব্রাজিলে ব্রিকসের মঞ্চে ফের মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর। বুধবার, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায়, কথা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিনা পণ্যের বিরোধিতা করে নভেম্বরের শুরুতেই রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপি-র মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে এসেছে ভারত। তার প্রভাব অবশ‌্য মোদি-জিনপিং বৈঠকে পড়েনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category