কিশোর গ্যাং এর প্রধান আনোয়ার
কিশোর গ্যাং এর প্রধান আনোয়ার

আশুলিয়ার ডেন্ডাবরে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর কিশোর গ্যাং

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় ভয়ংকর একটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। আরিফ ও আনোয়ারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন সঙ্গবদ্ধ কিশোরদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গ্যাং।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী। কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান আশুলিয়ার উত্তর ডেন্ডাবর এলাকার মোঃ দেলোয়ার কন্ট্রাক্টরের ছেলে আনোয়ার, অপরজন একই এলাকার মোঃ সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোঃ আরিফ হোসেন। এদের মধ্যে আরিফ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলো সে।

কিন্তু বয়স কম হওয়ায় বার বার সে ছাড় পেয়ছিলো। বর্তমানে এমন কোন অপকর্ম নাই, যা তারা করছে না। মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, চুরি ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, সাধারণ মানুষের উপর অকারণে নির্যাতনসহ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ডেন্ডাবর এলাকার দশতলা রোড এলাকা,বাতানটেক, মিজান হাজ্বীর বাশ বাগান এলাকায় এদের অপরাধ তৎপরাতা বেশি দেখা যায়। এ গ্যাংয়ের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে মাদক ব্যাবসা ও ফিটিং বানিজ্য। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে তারা আনোয়ারের নেতৃত্বে এলাকায় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে।

সেই সাথে তারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একটু দোষ ত্রুটি পেলেই তারা সঙ্গবদ্ধভাবে ঝাপিয়ে পড়ে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে দেরি হলে বেড়ে যায় অত্যাচারের মাত্রা। স্থানীয়রা জানান, এদের অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ দিলে তারা উল্টো ভূক্তোভোগিকেই দোষারোপ করে এবং বলে দেয় এলাকায় থাকলে পোলাপানদের খেয়াল রাখতে হবে। অপরিচিত ছেলে মেয়েদের একসাথে চলতে দেখলে অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে টাকা ও মোবাইল জিম্মি করে নিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (২৪ /০৫/২০) ইং সন্ধ্যায় আশুলিয়ার স্থানীয় সংবাদকর্মী মোঃ সায়েম সরকারের কিশোর পুত্র ইয়াছিন আরাফাত প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বাজারে যাওয়ার পথে দশতলা এলাকায় আনোয়ার ও আরিফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন মিলে রাস্তায় আটকিয়ে তার কাছে থাকা টাকা জোর করে নিয়ে যায় এবং ব্যাপক মারধর করে।

এরপর ইয়াছিন আরাফাত তাদেরকে তার পিতা সাংবাদিক একথা জানালে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিশ হাজার টাকা দাবি করে। এমতাবস্থায় খবর পেয়ে সাংবাদিক সায়েম সরকার স্থানীয় ব্যাক্তিদের সহায়তায় তার ছেলেকে ছাড়াতে উল্টো তাদের কাছে ভূল স্বীকার করে রক্ষা পায়।

এসময় স্থানীয়রা জানায় ওরা সকলেই মাদকাসক্ত এমুহূর্তে ওদের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা বড় ধরনের হামলা করতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে ওখান থেকে চলে আসতে হয়। কিন্তু তাদের হুমকি অব্যহত থাকায় ছেলের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক সায়েম সরকার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরি নং ১৩৬০।

আনোয়ার ও আরিফের নেতৃত্বে গ্যাংটি এতটাই বেপরোয়া যে এলাকার সুশীল সমাজের গলার কাটা হয়ে উঠেছে।আশুলিয়া থানার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসআই রকিবুল ইসলাম জানান, দন্ত করে জরুরি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে । এ ব্যাপারে বিজ্ঞ মহলের আশঙ্কা সঠিক তদন্ত করে জরুরি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন না করলে হয়তো বড় ধরনের অপরাধ জগৎ তৈরি হতে পারে বলে মনে করে ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category