আশুলিয়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং , এলাকাবাসী অতিষ্ঠ প্রশাসন নিরব

সাঈম সরকারঃ আশুলিয়া থানা এবং র‌্যাব ৪(নবীগনর, সাভার) এর নাকের ডগায় ডেন্ডাবর এলাকাতে ভয়ংকর একটি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সের সঙ্গবদ্ধ ৩০/৪০ জন কিশোরদেরকে নিয়ে গড়ে ওঠা গ্যাংটির বেপরোয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ।

এমন কোন অপরাধ নেই যাহা তারা করেনা। মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, অপহরণ, ভূমি দস্যূদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাস, সাধারণ মানুষের উপর অকারনে নির্যাতন সহ নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং লিডার আনোয়ার

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং লিডার আনোয়ার

কিশোর গ্যাং এর প্রধান ডেন্ডাবর উত্তর পাড়া এলাকার দেলোয়ার কন্ট্রাক্টরের ছেলে আনোয়ার এবং অপরজন একই এলাকার মাইনুদ্দিনের ছেলে আরিফ হোসেন। আরিফ হোসেন এলাকার মধ্যে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসাসী। ইতি মধ্যে বেশ কয়েক বার মাদক সহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় বার বার সে ছাড়া পায়। এদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় রয়েছে বিভিন্ন অপরাদের একাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়রী।

গত ২৪শে মে ২০২০ইং আশুলিয়ার একজন স্থানীয় সংবাদ কর্মীর শিশু পুত্রকে অপহরন করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপন দাবী করে। স্থানীয় লোকজনদের সহায়তা নিয়ে সংবাদ কর্মী তার পূত্রকে উদ্ধার করে এবং আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছে। এদের অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে ও প্রশাসনিক ভাবে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের দৌড়াত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে।

ডেন্ডাবর দশতলা রোড বাতানটেক এলাকায় মিজান হাজি ও বাচ্চু মিয়ার বাঁশঝাড়ে এদের অপরাধ তৎপরতা বেশি দেখা যায়। এই গ্যাংয়ের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও ফিটিং বানিজ্য। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আনোয়ার ও তার বাহিনিবর এলাকায় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ঘুড়াফেরা করে। এদের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ সহ অসহায় গার্মেন্টস শ্রমিকগণ। গত ৭ই আগষ্ট মোঃ আলম নামের একজন গার্মেন্টস শ্রমিককে মারধর করে ১টি স্যামস্যাম জে-৫ মোবাইল ফোন (যাহার মূল্য প্রায় ২২ হাজার টাকা) সহ নগদ ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় আনোয়ার ও তার সাঙ্গো-পাঙ্গোরা।

পলাশবাড়ী গ্রামের শফিক মাষ্টারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোঃ আলম সংবাদ কর্মীদের জানায় গত ৭ই আগষ্ঠ শুক্রবার সন্ধায় কেনা-কাটা করার জন্য ডেন্ডাবর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। এমন সময় অনুঃ রাত ০৮টায় ৪/৫ জন দলবদ্ধ একদল কিশোর বয়সের সন্ত্রাসীগন তাকে গতিরোধ করে বাচ্চু মিয়ার বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়।

মারধর করে নগদ ২হাজার টাকা ও হাতের থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এবিষয়ে সন্ত্রাসী আনোয়া গং দের নিকট সংবাদ কর্মীগন জানার চেষ্টা করলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। যানাযায় ভূক্তভোগি মোঃ আলম স্কাই লাইন গার্মেন্টসে অপারেটর পদে চাকুরী করে। তার প্রতিষ্ঠানের পরিচয় পত্র নং ৩১২৩। মোঃ আলম বাদী হয়ে গত ০৮-০৮-২০২০ আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এ ব্যপারে জানায় সঠিক তদন্তহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category